কিউবার জলসীমায় স্পিডবোটে হামলা: নিহত ৪, আহত ৬

কিউবার উত্তর উপকূলে সরকারবিরোধী একটি সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে টহল বাহিনীর সংঘর্ষে চারজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিবন্ধিত একটি স্পিডবোটে করে কিউবার জলসীমায় প্রবেশ করে এই দলটি এবং তারা কিউবার টহল দলের ওপর গুলি চালায়। এ সময় টহল বাহিনীর পাল্টা গুলিতে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

বিবৃতিতে বলা হয়, স্পিডবোটে থাকা দলটি সরকারবিরোধী কিউবানদের দ্বারা গঠিত ছিল। এদের মধ্যে কয়েকজন আগে থেকেই হামলার ষড়যন্ত্রের জন্য অভিযুক্ত হয়ে পলাতক ছিল। তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছিল এবং তাদের পরনে ছিল ছদ্মবেশী পোশাক। তাদের কাছ থেকে অ্যাসল্ট রাইফেল, পিস্তল, ঘরে তৈরি বিস্ফোরক, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও টেলিস্কোপিক সাইট উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার হাভানা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পূর্বে ফ্যালকোনেস কে চ্যানেল এলাকায়। স্পিডবোটটি কিউবার উত্তর উপকূলের এক নটিক্যাল মাইলের মধ্যে চলে এলে টহল দলের পাঁচ সদস্যের একটি ইউনিটের দিকে এগিয়ে যায় এবং গুলিবর্ষণ শুরু করে।

কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহতদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় কিউবার টহল দলের কমান্ডারও গুলিতে আহত হয়েছে। এছাড়া এই চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত থাকায় কিউবার ভেতর থেকে আরেক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অভিযান ছিল না এবং মার্কিন সরকারের কোনো পেশাদারও এতে জড়িত ছিল না। তিনি বলেন, কিউবার কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছে। তবে হাভানার মার্কিন দূতাবাস কী ঘটেছে তা যাচাই করার জন্য স্বতন্ত্রভাবে উদ্যোগ নেবে।

রুবিও বলেন, “এই ঘটনার বিষয়ে আমরা আমাদের নিজেদের মতো করে তথ্য সংগ্রহ করবো। প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে তা বের করবো আমরা। এখানে অনেক কিছু ঘটতে পারতো। সংক্ষেপে বললে, এভাবে খোলা সাগরে গোলাগুলি অত্যন্ত অস্বাভাবিক।”

ফ্লোরিডার মার্কিন রাজনীতিকরা পৃথক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এবং কিউবার বক্তব্য তারা বিশ্বাস করে না বলে জানিয়েছে।

এ ঘটনা ঘটেছে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির এক সময়ে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপ দেশটিতে প্রায় সব তেলের সরবরাহ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে এবং কমিউনিস্ট শাসিত কিউবার সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী কারাকাস থেকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে কিউবার এক ঘনিষ্ঠ মিত্রকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার রুবিও কিউবা সরকারের বিরুদ্ধে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ‘চলমান স্থিতাবস্থাকে’ অস্থিতিশীল বলে অভিহিত করেন এবং কিউবায় ‘নাটকীয় পরিবর্তন প্রয়োজন’ বলে মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বহু কিউবান নির্বাসিত বসবাস করেন, বিশেষ করে ফ্লোরিডার মায়ামিতে। তাদের বড় একটি অংশের বহুদিনের স্বপ্ন কিউবার সরকারকে উচ্ছেদ করা। আগেও বিভিন্ন সময় তারা কিউবা সরকারের পতনের উদ্দেশ্যে নানা ষড়যন্ত্র করেছে।

এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ১৯৬১ সালের ‘বে অব পিগস’ আক্রমণ। ওই সময় তৎকালীন ক্ষমতায় থাকা ফিদেল ক্যাস্ত্রোকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে সিআইএর সমর্থন ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে কিউবার নির্বাসিতরা দ্বীপটিতে হামলার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের চক্রান্তের ঘটনা অনেক কমে এলেও মার্কিন তেল অবরোধের কারণে কিউবায় তীব্র জ্বালানি সংকট চলছে। এই পরিস্থিতিতে কিউবার সরকার দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বিরোধীদের আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।