মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স হঠাৎ স্থগিত হওয়া দুটি ফ্লাইট নতুন সময়সূচিতে পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে, তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
কোন দুটি ফ্লাইট পুনরায় চালু হচ্ছে?
রোববার দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়—
- ঢাকা–মদিনা রুটের বিজি-৩৩৭ ফ্লাইট রোববার বিকাল ৪টায় মদিনার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
- ঢাকা–জেদ্দা রুটের বিজি-৩৩৫ ফ্লাইট রোববার সন্ধ্যা ৭টায় জেদ্দার উদ্দেশে যাত্রা করবে।
এর আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে দাম্মাম, জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, শারজাহ, আবুধাবি, দুবাই ও কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব গন্তব্যে ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
বিমানবন্দরে মানবিক সংকট
শনিবার রাত থেকেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় শত শত যাত্রী আটকা পড়েন। অনেকেই সকাল থেকে বিমানবন্দরে এসে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। কেউ বাড়ি ফিরতে পারেননি, আবার অনেকের কাছে ফেরার ভাড়াও ছিল না।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এক যাত্রী মাস্কাটগামী ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অনিশ্চয়তার কথা জানান। তাঁর মতো অনেকেই তথ্যের ঘাটতিতে ভুগছেন—কারও মোবাইলে ইন্টারনেট নেই, আবার কেউ বিদেশি নম্বর ব্যবহার করায় যোগাযোগ পাচ্ছেন না।
এখানে বড় সমস্যা শুধু ফ্লাইট বাতিল নয়, বরং তথ্য প্রবাহের ঘাটতি। বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে গেলেও টার্মিনালে উপস্থিত যাত্রীদের অনেকেই তা জানতে পারেননি। সংকটকালে ডিজিটাল নোটিফিকেশন, এসএমএস ব্রডকাস্ট ও সরাসরি ঘোষণার সমন্বিত ব্যবস্থা না থাকলে এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
রাত্রিযাপনের ঘোষণা, বাস্তবতা প্রশ্নবিদ্ধ
রাত ৮টার দিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, বাতিল ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু রাত ১১টা পর্যন্ত টার্মিনাল এলাকায় সেই উদ্যোগের দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখা যায়নি বলে জানা গেছে।
সরকারের আশ্বাস
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বিমানবন্দর পরিদর্শন করে যাত্রীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্বাভাবিক হলে দ্রুত যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় চলছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, আকাশসীমা বন্ধ থাকায় কর্মীদের যাতায়াত ব্যাহত হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি উন্নত হলে বাংলাদেশিদের প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দুটি ফ্লাইট পুনরায় চালুর ঘোষণা কিছুটা স্বস্তি দিলেও সামগ্রিক সংকট এখনো কাটেনি। যুদ্ধ পরিস্থিতি যতদিন অস্থির থাকবে, ততদিন আকাশপথে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে। এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—যাত্রীদের সঙ্গে দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তা বাস্তবে দৃশ্যমান করা।
