রাশিয়ান জ্বালানি আমদানিতে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়’—সরকার বলছে, প্রচারিত তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে নতুন করে ৬০ দিনের কোনো ছাড় দেওয়া হয়েছে—এমন খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও বিষয়টি পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ) জারি করা এক ব্যাখ্যামূলক বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত এই সংক্রান্ত সংবাদ তাদের নজরে এসেছে। তবে এসব প্রতিবেদনে যে দাবি করা হয়েছে—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাশিয়ান জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশকে নতুন করে ৬০ দিনের ছাড় দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নিশ্চিতকরণ বা মন্তব্য দেওয়া হয়নি।

বিভাগের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়, তাদের কোনো অনুমোদিত কর্মকর্তা এ ধরনের কোনো তথ্য গণমাধ্যমে সরবরাহ করেননি। এমনকি ১১ এপ্রিল থেকে ৯ জুন ২০২৬ সময়সীমার মধ্যে কথিত ছাড় বা রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ (প্রায় ১০ লাখ টন) ডিজেল আমদানির কোনো পরিকল্পনা নিয়েও তারা কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ছাড় কার্যকর হয়েছে—এমন কোনো সরকারি তথ্য, নীতিগত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বর্তমানে বিভাগের কাছে নেই। একইভাবে বাংলাদেশ কর্তৃক বিপুল পরিমাণ ডিজেল ক্রয়ের কোনো প্রস্তাব বা কার্যক্রম সম্পর্কেও বিভাগ অবগত নয়।

এ প্রেক্ষাপটে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের নামে যে তথ্য বা বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলোকে সম্পূর্ণ অননুমোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করা হয়েছে।

বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে যাচাইবিহীন বা অনুমাননির্ভর তথ্য প্রচার জাতীয় জ্বালানি নীতি, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তথ্য যাচাই করে প্রচারের আহ্বান জানানো হয়েছে।