মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর বলাকী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১ জুন) দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন মুসা (৭০), সুমন (৩৫) ও জিকু (২৮)। তাদের মধ্যে সুমন ও জিকু গুরুতর আহত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে ঈদগাহ এলাকায় প্রথমে মুসা ও শহর আলীর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে হোসেন্দী ইউনিয়ন বিএনপির ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়সহ অন্তত পাঁচটি বসতবাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী মুসা বলেন, কয়েক মাস আগে শহর আলী ও তার ছেলে তাকে মারধর করেছিলেন। সোমবার আবার দেখা হলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অন্যদিকে যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দলীয় কার্যালয় ও একাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয় এবং প্রায় দুই শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এতে অংশ নেয়।
অভিযোগের বিষয়ে যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, উল্টো তার পক্ষের লোকজনকে ধাওয়া ও হামলার চেষ্টা করা হয়েছে এবং নিজেরাই নিজেদের কার্যালয় ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে তাদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্র হাতে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর এবং চলতি বছরের ৫ এপ্রিল একই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৯ জন আহত হন এবং একাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
