অভ্যন্তরীণ নৌপথে যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন আরও শক্তিশালী করতে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় দুটি নতুন নদীবন্দর ঘোষণা করেছে সরকার। নতুন এই দুটি বন্দর যুক্ত হওয়ায় দেশে সরকারি স্বীকৃত নদীবন্দরের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬টিতে।
বুধবার (৮ জুলাই) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সারিয়াকান্দি ও ধুনটকে নদীবন্দর হিসেবে ঘোষণা দেয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এই দুই বন্দরের সংরক্ষকের দায়িত্ব পালন করবে।
এর আগে নোয়াখালীর হাতিয়া দেশের ৫৪তম নদীবন্দর হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়েছিল। সর্বশেষ বগুড়ার যমুনা তীরবর্তী এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে নদীবন্দরের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে সারিয়াকান্দি নদীবন্দরের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের কালিতলা ঘাটের উত্তর দিক থেকে হাটশেরপুর ইউনিয়নের খুদ বলাইল মৌজার দিঘাপাড়া ঘাট পর্যন্ত। যমুনা নদীর পূর্ব তীরে কাজলা ইউনিয়নের বেড়া পাঁচবাড়িয়া মৌজার জামথল ঘাটও এর আওতায় থাকবে।
এ ছাড়া বন্দরের দক্ষিণ সীমানা কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের মথুরাপাড়া ঘাট (দেবভাঙ্গা) থেকে যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ে নারাপালা মৌজার মূলবাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। দিঘাপাড়া, কালিতলা, মথুরাপাড়া, জামথল ও শোনপচা ঘাটসহ সংশ্লিষ্ট সব খাল ও নৌ-অবকাঠামো এই বন্দরের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অন্যদিকে ধুনট নদীবন্দরের উত্তর সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের মথুরাপাড়া ঘাট থেকে যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ের নারাপালা মৌজার মূলবাড়ি পর্যন্ত। দক্ষিণে এর বিস্তৃতি থাকবে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ঢেকুরিয়া হাট সংলগ্ন এলাকা এবং ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের চৌবার মৌজার বৈশাখীর চর পর্যন্ত। এই বন্দরের আওতায় চন্দনবাইশা ও শহরাবাড়ি ঘাটসহ সংশ্লিষ্ট সব খাল ও নৌঘাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, উভয় নদীবন্দরের স্থলসীমা সাধারণ জোয়ারের সময় নদীর সর্বোচ্চ পানির স্তর থেকে তীরের দিকে ৫০ গজ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে। বন্দর এলাকায় নৌপথ উন্নয়ন, জেটি ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে এই সীমানার মধ্যে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব কার্যকর থাকবে না।
