সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ২০২টি দেশে বাংলাদেশের ৮১২ ধরনের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। এদিন বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
মন্ত্রী বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়াতে শুল্ক বহির্ভূত বাধা দূর করা, সংবেদনশীল পণ্যের তালিকা কমানো এবং শুল্ক সুবিধা সম্প্রসারণে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এ ছাড়া বাণিজ্য-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান ও সহযোগিতা বাড়াতে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সচিব ও ওয়ার্কিং গ্রুপ পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আঞ্চলিক বাণিজ্য জোরদারে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত বাংলাদেশসহ সার্কভুক্ত স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য তামাক ও মাদকজাত পণ্য ছাড়া প্রায় সব পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দিচ্ছে। এর ফলে ভারতসহ আঞ্চলিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ-ভুটান অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বর্তমানে বাংলাদেশের ১০০টি পণ্য ভুটানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। একইভাবে ভুটানের ৩৪টি পণ্যও বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে।
লিখিত উত্তরে মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের ২০২টি গন্তব্যে মোট ৮১২ ধরনের পণ্য রপ্তানি করেছে। দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য। এছাড়া স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, ভারত, ইতালি, কানাডা, জাপান, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, বেলজিয়াম, চীন, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো ও রাশিয়াও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য।
মন্ত্রী বলেন, ওই অর্থবছরে বোনা ও নিট পোশাক, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত ও জীবিত মাছ, কৃষিপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা এবং প্রকৌশলজাত পণ্য ছিল দেশের প্রধান রপ্তানি খাত।
তার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসব পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৪৪ হাজার ১৬৭ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৯১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
