অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির অভিযোগে ১১ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি

অর্থ পাচার, কর ফাঁকি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দেশের শীর্ষ কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। যৌথ তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অন্তত ১১টি করপোরেট গ্রুপের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, ওরিয়ন, জেমকন, নাসা, বসুন্ধরা, সিকদার ও আরামিট গ্রুপ। এছাড়া আরও একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সেই প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন নয়, সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোর নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব এবং দেশ-বিদেশে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে ৬ জানুয়ারি যৌথ তদন্তের কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে ১১টি করপোরেট গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে অনুসন্ধান চলমান থাকায় ভবিষ্যতে এই তালিকায় আরও প্রতিষ্ঠান যুক্ত হতে পারে।

সূত্র জানায়, পুরো তদন্ত কার্যক্রমের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে বিএফআইইউ। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আইনি সহায়তা দিচ্ছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, যৌথ তদন্তে সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শেষে দ্রুত আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ আইনের আওতায় অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক তথ্য মূল্যায়ন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে উঠে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ, কর ও শুল্ক ফাঁকি, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ।

তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যে জব্দ করেছে বিএফআইইউ। পাশাপাশি তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন, ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগী এবং অর্থের প্রবাহ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা সম্ভাব্য সম্পদের তথ্য সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের কাছেও আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চাওয়া হয়েছে।