জুনে বিজিবির অভিযানে ৩০৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

দেশের সীমান্ত ও বিভিন্ন এলাকায় গত জুন মাসজুড়ে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৩০৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, স্বর্ণ, অস্ত্র, যানবাহনসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি চোরাচালান ও অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে ৫৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

গত জুন মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ৩০৭ কোটি ৬৫ লাখ ১১ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজিবি জানায়, জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৫ কেজি ৫৯২ গ্রাম স্বর্ণ, ১৮ হাজার ১৫টি শাড়ি, ৩ হাজার ২৫২টি থ্রি-পিস, শার্টপিস, চাদর ও কম্বল, ৯ হাজার ৫৫১টি তৈরি পোশাক, ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৮টি প্রসাধনী সামগ্রী, ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৩টি আতশবাজি, ৭ হাজার ৪৬৪ ঘনফুট কাঠ, ৭ হাজার ৩১৬ কেজি চা-পাতা, ৪ হাজার ২৭০ কেজি সুপারি, ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ কেজি কয়লা, ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৮ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৪৯৭টি মোবাইল ফোন, ১ হাজার ৮৬৫টি মোবাইলের প্রদর্শনপর্দা, ৪১ হাজার ১৬২টি মোবাইল যন্ত্রাংশ, ১৫ হাজার ৫৬টি বৈদ্যুতিক সামগ্রী, ২২ হাজার ৬১২টি চশমা, ৫২ হাজার ৭৩৬ কেজি জিরা, ৪ হাজার ২৮৫ কেজি রসুন, ১৮ হাজার ৭৯৮ কেজি চিনি, ১০ হাজার ২২৪ কেজি সার, ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৯টি চিংড়ি মাছের পোনা, ৩ হাজার ২৮২ লিটার ভোজ্য তেল, ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও মবিল, ২ হাজার ২৭৬ প্যাকেট কীটনাশক, ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪১৯টি বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ৬৯৪ কেজি বিভিন্ন ধরনের বীজ, ১ হাজার ২৩৯টি যানবাহনের যন্ত্রাংশ, ১১টি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, পাঁচটি পিকআপ, তিনটি প্রাইভেটকার ও বাস, তিনটি ট্রাক্টর, ২০টি ট্রলি ও মাইক্রোবাস, ৬৮টি সিএনজি, ইজিবাইক ও অটোরিকশা, ৩৫টি মোটরসাইকেল এবং ৫৩টি বাইসাইকেল ও ভ্যান।

অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আটটি দেশি ও বিদেশি পিস্তল, একটি রাইফেল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ৬৩০ রাউন্ড গুলি, দুটি মাইন, ছয়টি গ্রেনেড এবং ছয়টি অন্যান্য অস্ত্র।

বিজিবির তথ্যমতে, জুন মাসে বিপুল পরিমাণ মাদকও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫২টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৮ কেজি ১৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ৬০৭ গ্রাম হেরোইন, এক হাজার ৪২২ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৮ বোতল বিদেশি মদ, ৩৯৫ লিটার বাংলা মদ, ৩ হাজার ২৬৮ ক্যান বিয়ার, এক হাজার ৭১০ কেজি ৪৭০ গ্রাম গাঁজা, ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৩টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইনজেকশন, ২৪ হাজার ২০১ বোতল বিভিন্ন ধরনের সিরাপ এবং ৮২ হাজার ৭১৫টি বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ওষুধ ও ট্যাবলেট।

এ ছাড়া সীমান্তে মাদক ও অন্যান্য চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১২ জন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪৭ জন বাংলাদেশি, একজন ভারতীয় এবং ২৮৪ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।