শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আহত করার অভিযোগে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮ অনুযায়ী এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সরকারি তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়।
তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নির্দেশে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, ঘটনার তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যালয়ে উদ্ভূত ঘটনার পরপরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে।
তদন্তে প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের সহিংসতা, অসদাচরণ বা শৃঙ্খলাভঙ্গের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি এ ঘটনায় দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রশাসনকে আরও জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর হতে সহায়তা করে। গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে অনিয়ম, সহিংসতা বা দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও সরকার গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় রেখে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করবে।”
সরকারি তথ্য বিবরণীতে আরও বলা হয়, ঘটনাটি প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
