সাংবাদিক ও শিক্ষক শাহেদ কামাল আর নেই

দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং প্রখ্যাত কবি সুফিয়া কামালের ছেলে শাহেদ কামাল আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

শাহেদ কামালের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুরাইয়া বেগম। এছাড়া তাঁর ছোট বোন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামালও পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাঁর মরদেহ রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে নেওয়া হবে। পরে জাতীয় প্রেসক্লাবে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে।

শাহেদ কামাল ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা পেশায় যাত্রা শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাসহ বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকতায় পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার জন্য তিনি সহকর্মীদের কাছে সমাদৃত ছিলেন।

১৯৭৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় ধরে বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিষয়ে শিক্ষা দেন।

শাহেদ কামালের মৃত্যুতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা এক শোকবার্তায় তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

সাংবাদিকতা ও শিক্ষাক্ষেত্রে শাহেদ কামালের অবদান দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের গণমাধ্যম ও শিক্ষা অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।