ডিজিটাল যুগের চাহিদায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের আইন আধুনিকায়নের উদ্যোগ

ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং অনলাইনভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নতুন আইন প্রণয়নেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রোববার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইন সময়োপযোগীকরণ ও নতুন আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত এক সভায় সভাপতিত্ব করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ উদ্যোগের কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে মানুষের জীবনযাত্রা, যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান ও সামাজিক আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি সৃষ্টি করেছে নানা ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তোলা এখন অত্যন্ত প্রয়োজন।

তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিদ্যমান সব আইন, বিধি, প্রবিধান ও নিয়মাবলি পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে। কোন আইন সংশোধন বা আধুনিকায়ন প্রয়োজন, কোথায় নতুন আইন প্রণয়ন জরুরি এবং কোন ক্ষেত্রে আইনি ঘাটতি রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মূলত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইনভিত্তিক সেবা এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারে অনেক ক্ষেত্রই প্রচলিত আইনের আওতার বাইরে চলে গেছে। ফলে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন সংস্কার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে। বাংলাদেশের জন্য কার্যকর ও বাস্তবসম্মত আইনি কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে এসব দেশের আইন ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সাইবার জগৎ, ডিজিটাল ট্রান্সমিশন এবং প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন সেবাকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, টেলিযোগাযোগ খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামতও গ্রহণ করা হবে।

সভায় তিনি নতুন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ দ্রুত শনাক্ত করা, সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রয়োজনে কমিটির বাইরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী প্যানেলের সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।