জনগণের আস্থা অটুট রাখতেই নিরাপত্তা কৌশল, কার্বন ক্রেডিট ও পল্লী উন্নয়নেও গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসাই সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ না করেন। রোববার ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। একই দিনে তিনি কার্বন ক্রেডিট বৃদ্ধির কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিটও উন্মোচন করেন।

নিরাপত্তা ও জনসম্পৃক্ততার ভারসাম্য

পিজিআর সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে তাঁকে নিয়মিত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়। এসব কর্মসূচিতে জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও স্বাচ্ছন্দ্যও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা কৌশল এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে জনগণ মনে করে সরকারপ্রধান তাদের থেকে দূরে সরে গেছেন। তিনি জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আস্থা রাখার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমান ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’-কে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ হিসেবে পুনর্গঠন করে বাহিনীটিকে নতুন পরিচয় দেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের সময় কর্তব্যরত পিজিআর সদস্যদের আত্মত্যাগের কথাও তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে সাইবার যুদ্ধ, ড্রোন যুদ্ধ ও তথ্যযুদ্ধের মতো নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কার্বন ক্রেডিট বৃদ্ধির নির্দেশ

বিকেলে সচিবালয়ে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দেশের কার্বন ক্রেডিট বৃদ্ধির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বনায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পল্লী উন্নয়ন দিবসের ডাকটিকিট উন্মোচন

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও ডাটাকার্ড উন্মোচন করেন। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

সচিবালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।