জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগে একই বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযুক্তরা লিখিতভাবে ঘটনার দায়ও স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ১৩ শিক্ষার্থী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১১টা থেকে শনিবার রাত ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ৫৫তম ব্যাচের ১৩ জন নবীন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নেন। সেখানে শিষ্টাচার শেখানোর অজুহাতে তাদের কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা এবং বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
একপর্যায়ে এক নবীন শিক্ষার্থী গোপনে জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতিকে বিষয়টি জানালে প্রক্টরিয়াল দল ও জাকসুর র্যাগিংবিরোধী সেলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয়ে নিয়ে ভিডিও ধারণ ও লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী মো. এহসানুল হক জানান, তাদের বাবা-মাকে নিয়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে এবং কান ধরে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রক্টরিয়াল দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তারা উদ্ধার পান।
আরেক শিক্ষার্থী রাজ খানের অভিযোগ, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও কেন্দ্রীয় মাঠে গভীর রাত পর্যন্ত তাদের হেনস্তা করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিনার, শ্রেণিকক্ষের করিডর, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও আবাসিক হলে চলাচল নিয়েও বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তিনি ঘটনার কঠোর বিচার দাবি করেন।
অভিযুক্ত ব্যাচের শ্রেণি প্রতিনিধির স্বাক্ষরিত লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম আবর্তনের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে শিষ্টাচার শেখানোর নামে মাঠে ডেকে নিয়ে র্যাগিং করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্তদের হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে প্রক্টরিয়াল সভায় উপস্থাপন করা হবে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অভিযোগের তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
