ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) এবং হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেছেন চিকিৎসকরা। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার দুপুর ১২টায় সোসাইটি অব অটোল্যারিংগোলজিস্ট অ্যান্ড হেড-নেক সার্জনস অব বাংলাদেশ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকরা সংহতি জানান।
গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ব্যক্তিগত চেম্বার শেষে সিএনজি অটোরিকশায় ওঠার সময় অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলা চালায় একদল ব্যক্তি। হামলায় তার মাথা, চোখ ও নাকে আঘাত লাগে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির দাবি, একজন রোগীকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে বিষয়টি আরও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মানববন্ধনে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, হামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার ও আইজি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, চিকিৎসকরা নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ না পেলে দেশের বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
সোসাইটি অব অটোল্যারিংগোলজিস্ট অ্যান্ড হেড-নেক সার্জনস অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. মাজহারুল শাহীন বলেন, রোগীকে সুস্থ করে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করাই চিকিৎসকের দায়িত্ব। তবে কোনো চিকিৎসকই রোগীর মৃত্যু প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দিয়ে চিকিৎসা করতে পারেন না। চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগী ও স্বজনদের ভুল-বোঝাবুঝি দূর করতে ‘চিকিৎসক সুরক্ষা আইন’ ও ‘রোগী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।
অধ্যাপক মাজহারুল শাহীন বলেন, কোনো চিকিৎসক দোষী হলে প্রচলিত আইন ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু কোনো কারণেই চিকিৎসকদের ওপর বিনা প্ররোচনায় বা উসকানিমূলক হামলা মেনে নেওয়া যায় না।
মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. জাকারিয়া-আল-আজিজ বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার না হলে এ ধরনের অরাজকতা আরও বাড়বে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি চিকিৎসক ও রোগী উভয়ের সুরক্ষায় কার্যকর আইন প্রণয়ন জরুরি।
