বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গ্যাস খালাস বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যাওয়ায় আবাসিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি বেড়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) পূর্বনির্ধারিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো থেকে গ্যাস খালাস কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এর ফলে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরিত এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) কমে গেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পেট্রোবাংলার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারাদেশে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতসহ সব ধরনের গ্রাহক গ্যাসের স্বল্পচাপের মুখে পড়বেন।
এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বাসাবাড়িতে রান্না এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেক গ্রাহককে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এটি একটি সাময়িক সমস্যা। সাগরের আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমানে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ করা সম্ভব হয় প্রায় ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাকি গ্যাস সরবরাহ হয় দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে।
তবে স্বাভাবিক সময়েও দেশে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকে। যার প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত এবং গৃহস্থালির রান্নার কাজে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি খালাস বন্ধ থাকায় বিদ্যমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, সাগরের আবহাওয়া অনুকূলে ফিরলেই দ্রুত এলএনজি খালাস শুরু করা হবে এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
