চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে রাবি মেডিকেলে তালা, বিক্ষোভ শেষে আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলার সময় আহত এক শিক্ষার্থীর যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসে। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্র তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখায়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আন্তঃবিভাগীয় ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালে আহত হন হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরুখ হোসেন। ফিল্ডিংয়ের সময় আরেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সংঘর্ষে তার ঠোঁট গুরুতরভাবে কেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় সহপাঠীরা দ্রুত তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান।

তবে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসাকর্মীদের আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, আহত অবস্থায় শাহরুখকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দিয়ে কেবল প্রাথমিকভাবে টিস্যু দিয়ে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করা হয় এবং দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সহপাঠীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

বিকেলের দিকে শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা কেন্দ্র ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে তারা চিকিৎসা কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টাও করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের এক নেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ ওঠে।

আহত শিক্ষার্থীর এক সহপাঠী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গুরুতরভাবে রক্তপাত হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসা কেন্দ্রে ন্যূনতম চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব চিকিৎসা ব্যবস্থায় এমন সেবা না পাওয়া যায়, তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তারা এ ঘটনার স্থায়ী সমাধান দাবি করেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান জানান, আহত শিক্ষার্থীর অবস্থা স্পর্শকাতর হওয়ায় এবং ঠোঁটে গভীর ক্ষত থাকায় সেলাই প্রয়োজন ছিল। এ কারণে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো হয়। তবে সেদিন ছুটির কারণে সেখানে সেবা পেতে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।

চিকিৎসা কেন্দ্রে অবহেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক মাফরুহা সিদ্দিকা লিপি জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে থাকলেও বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরে বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক সাইদুজ্জামান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানান, উপাচার্য বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছেন এবং আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বহনের আশ্বাস দিয়েছেন।

এই আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেন এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে।