রাবি ক্যাম্পাসে মশার দাপট: পড়াশোনা ছেড়ে টিকে থাকাই যেন বড় চ্যালেঞ্জ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিন যত যাচ্ছে, মশার উৎপাত ততই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেন থমকে দাঁড়ায়। পড়াশোনা, ঘুম—সবকিছুতেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ক্ষুদ্র পোকা, যা এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

“পড়তে বসলে কয়েক মিনিট পরপরই মশার কামড়ে উঠে দাঁড়াতে হয়”—চরম বিরক্তি নিয়ে এমন অভিজ্ঞতার কথাই জানালেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলাম তানবীর। তিনি বলেন, লাইট বন্ধ করা, দরজা-জানালা আটকে রাখা—কোনো কিছুতেই স্বস্তি মিলছে না। ফলে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ঘুমের সমস্যাও বাড়ছে।

ক্যাম্পাসজুড়ে এখন এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন কিংবা খোলা জায়গা—কোথাও মশার হাত থেকে রেহাই নেই। শিক্ষার্থীরা জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই মশার উপদ্রব এতটাই বেড়ে যায় যে, পড়ার টেবিলে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। বইয়ের পাতায় মনোযোগ দেওয়ার বদলে মশা তাড়াতেই সময় চলে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যাস্তের পরপরই বিভিন্ন হলের রুম, বারান্দা, রিডিং রুম এবং ক্যান্টিনে মশার আধিপত্য বাড়তে থাকে। শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, টুকিটাকি এলাকা, পরিবহন মার্কেট, মলচত্বর ও বিবি চত্বরের মতো উন্মুক্ত স্থানগুলোতেও একই চিত্র। শিক্ষার্থীরা সেখানে বসে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটাতেও পারছেন না।

মাদার বখশ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হাসানুজ্জামান বলেন, সন্ধ্যার পর রুমে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। জানালা খুললেই মশা ঢুকে পড়ে, আবার বন্ধ রাখলে অসহনীয় গরমে দম বন্ধ হয়ে আসার মতো অবস্থা তৈরি হয়।

আরেক শিক্ষার্থী শোয়াইব জানান, এই পরিস্থিতি শুধু অস্বস্তিকরই নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। ঠিকমতো ঘুম না হওয়ায় ক্লান্তি বাড়ছে, পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের আশঙ্কা তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। তিনি মনে করেন, নিয়মিত ও কার্যকর মশা নিধন কার্যক্রম না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানান, মশা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে হল এলাকার ড্রেনগুলোতে পানি জমে থাকায় মশার বিস্তার বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সেগুলো পরিষ্কার রাখার কাজ চলছে। পাশাপাশি ফগিং মেশিনের মাধ্যমে নিয়মিত স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে প্রশাসনের সঙ্গে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও কাজ করছে।

তবে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ আরও জোরদার করা হোক, যাতে দ্রুতই ক্যাম্পাসে স্বস্তিকর পরিবেশ ফিরে আসে এবং তারা স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারেন।