ঢাকা-৮ আসনের রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী শুক্রবার নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে শান্তিনগরের হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একটি পিঠা উৎসবে সংঘটিত বিশৃঙ্খলা ও একজন প্রার্থীর দিকে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান ও সিভিল জজ মো. শামসুল হকের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রদানের মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেন।
গত ২৭ জানুয়ারি, হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ আয়োজিত শীতকালীন পিঠা উৎসবে একই আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উপস্থিত হন। দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দিকে ডিম ছোঁড়া হয় এবং তিনি হেনস্তার শিকার হন বলে দাবি করেন।
ঘটনার পর এনসিপি পক্ষ থেকে তীব্র অভিযোগ তোলে যে, বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের নির্দেশে তার সমর্থকরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস এই অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেন।
ঘটনাটি নিয়ে রিটার্নিং অফিসার রমনা থানার ওসির পাশাপাশি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রতিবেদন তলব করেন। বৃহস্পতিবার কলেজ অধ্যক্ষ এবং শুক্রবার রমনা থানার ওসি তাদের পৃথক প্রতিবেদন জমা দেন। উভয় প্রতিবেদন পাওয়ার পর রিটার্নিং অফিসার নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে ঘটনাটির পূর্ণ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
রমনা থানার ওসি তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, কলেজের এই উৎসবে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতির বিষয়ে আগে থেকে কোনো পক্ষ থেকেই পুলিশকে অবহিত করা হয়নি। তবে, বিশ্বস্ত সূত্র থেকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর একই স্থানে যাওয়ার তথ্য জানতে পেরে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায় এবং নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে ফোর্স মোতায়েন করে।
ওসির বর্ণনামতে, প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার শিক্ষার্থী ও দুই পক্ষের সমর্থকরা সেখানে জড়ো হন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উৎসবে যোগ দিলে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তিনি বারান্দায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় উশৃঙ্খল জনতার পক্ষ থেকে তার দিকে ডিম ও পানি নিক্ষেপ করা হয় এবং বিভিন্ন শ্লোগান দেয়া হয়। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওসি দাবি করেন, পুলিশের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে ঘটনাস্থলে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
কলেজের অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েস তার জবাবি প্রতিবেদনে রিটার্নিং অফিসারকে জানান, এই পিঠা উৎসব ছিল একটি সম্পূর্ণ কলেজীয় আয়োজন। কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থী বা বাইরের কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। উৎসবটি কোনো প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য উদ্বোধন করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রিটার্নিং অফিসারের এই নির্দেশনার ভিত্তিতে এখন নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করবে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে আইনানুগ ও নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
