জরিপে বিএনপি এগিয়ে, বাড়ছে নির্বাচনি আস্থা

একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের একটি বড় অংশ বিএনপিকে সরকার গঠনের জন্য উপযুক্ত দল মনে করছেন।

‘জনগণের নির্বাচনি ভাবনা’ শীর্ষক এই জরিপের তৃতীয় রাউন্ডের ফলাফল অনুসারে, ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য বিএনপিকেই সবচেয়ে যোগ্য দল হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। অন্যদিকে, ৫১.৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন বিএনপি ও তাদের জোট সরকার গঠনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৪৭.৬ শতাংশ উত্তরদাতা। জামায়াতে ইসলামীর শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দ করেছেন ২২.৫ শতাংশ এবং এনসিপির নাহিদ ইসলামকে পছন্দ করেছেন ২.৭ শতাংশ উত্তরদাতা।

দলীয় সমর্থনের ক্ষেত্রে, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটকে পছন্দ করেছেন ৩০.৪ শতাংশ উত্তরদাতা। জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপির ভোটাররা তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল, অন্যদিকে জামায়াতের ভোটারদের মধ্যে কিছুটা অস্থিরতা দেখা গেছে। জামায়াত থেকে বিএনপির দিকে কিছু সমর্থন স্থানান্তরিত হওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে।

জরিপে আরও দেখা গেছে, মোট নমুনার প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার কোনো রাউন্ডেই নির্দিষ্ট দল বা প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। এই ৩০ শতাংশ ‘ভাসমান’ ভোটারের সিদ্ধান্তই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রক্রিয়া নিয়ে ভোটারদের আস্থা বাড়ছে বলে প্রতিভাত হয়েছে জরিপে। ৭২.৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে, যা আগের রাউন্ডের চেয়ে বেশি। ৭৪.৪ শতাংশ পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আস্থাশীল। ৮২.৩ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন তারা নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন।

সংবিধানের সংশোধনী সংক্রান্ত গণভোট সম্পর্কে ৫৯.৫ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ‘না’ ভোট দেবেন মাত্র ৬.৮ শতাংশ। ২২ শতাংশ এ বিষয়ে অজ্ঞাত এবং ১১.৭ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৯৩.৩ শতাংশ ভোট দিতে যাওয়ার কথা বলেছেন। তবে তরুণ বা জেনারেশন-জেড ভোটারদের মধ্যে ভোটদানে আগ্রহ তুলনামূলকভাবে sedikit, ৯১.৬ শতাংশ।

উল্লেখ্য, এই জরিপটি তিনটি রাউন্ডে পরিচালিত হয়। তৃতীয় রাউন্ডটি গত ১৬ থেকে ২৭ জানুয়ারির মধ্যে টেলিফোন সাক্ষাতকারের মাধ্যমে করা হয়, যেখানে ৫,১৪৭ জন অংশ নেন। আগের রাউন্ডগুলোতেও একই উত্তরদাতাদের অংশগ্রহণ ছিল।