টানা দুই মাস তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স, জানুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি ৪৫ শতাংশ

পরপর দুই মাস ধরে প্রবাসী আয় তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে স্বস্তি ফিরেছে। সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারি মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩ বিলিয়ন ১৭ কোটি ডলার (৩১৭ কোটি ডলার), যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারির তুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে রেমিটেন্স বেড়েছে ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ। আগের বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় ছিল ২১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এর আগে গত ডিসেম্বরে রেমিটেন্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৪২ লাখ ডলার। অর্থাৎ টানা দুই মাস ধরে রেমিটেন্স তিন বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়েছে।

প্রবাসী আয়ের কিছুটা নাজুক পরিস্থিতির পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রেমিটেন্স আবার বাড়তে শুরু করে। ওই মাসে প্রবাসী আয় দাঁড়ায় প্রায় আড়াইশ কোটি ডলারে। এরপর থেকে আর কোনো মাসেই রেমিটেন্স এর নিচে নামেনি। পরের মাসে তা আরও বেড়ে ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলারে পৌঁছায়। এরপরের মাসগুলোতেও রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল প্রায় তিন বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

সাধারণত রোজা, ঈদ ও বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি অর্থ দেশে পাঠান। তবে চলতি বছরের শুরুতে রেমিটেন্স বাড়ার পেছনে আরও কিছু বিশেষ কারণ দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে অনেক প্রার্থী ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছেন, যেখানে প্রবাসীরাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা পাঠিয়েছেন।

এছাড়া এশিয়ার কয়েকটি দেশে ডলারের মান কমলেও বাংলাদেশে ডলারের বিনিময় হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতের রুপিও ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়েছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশে টাকা পাঠালে তুলনামূলক ভালো মূল্য পাওয়ায় জানুয়ারিতে বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা—এমনটাই মনে করছেন ব্যাংকাররা।

সব মিলিয়ে রেমিটেন্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা।