মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মা ও তার আট বছর বয়সী মেয়েকে হত্যার ঘটনায় একজন ভাড়াটিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ হিসেবে পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইল ফোনে উচ্চশব্দে গান বা ভিডিও দেখাকে কেন্দ্র করে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
গত ১৯ জানুয়ারি সকালে সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজানগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে আমেনা বেগম (৩২) ও তার কন্যা মরিয়মের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই আমেনার মা মনোয়ারা বেগম অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার নয় দিন পর, বুধবার রাতে গজারিয়া-দাউদকান্দি সেতুসংলগ্ন পাখির মোড় এলাকা থেকে আলী হোসেন (২৮) নামে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আলী হোসেন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
পুলিশ সুপারের বর্ণনায় উঠে এসেছে, ঘটনার দিন সকালে আমেনা বেগম মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখছিলেন। পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া আলী হোসেন শব্দ কমাতে বললে উভয়ের মধ্যে তর্ক বেধে যায়। একপর্যায়ে রাগান্বিত হয়ে আলী হোসেন একটি কাঠের লাঠি দিয়ে আমেনা বেগমের মাথায় আঘাত করেন। এদিকে মায়ের উপর আক্রমণ দেখে ছুটে আসা ছোট্ট মেয়ে মরিয়মকেও নির্মমভাবে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন তিনি।
পুলিশের দাবি, আলী হোসেন নিয়মিত মাদক সেবন করেন এবং ভবঘুরে জীবনযাপন করতেন। দীর্ঘদিন ভাড়া থাকলেও তার সঠিক পরিচয় বা ঠিকানা সম্পর্কে বাড়ির মালিকও সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল ছিলেন না। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আলী হোসেন গজারিয়া ও দাউদকান্দি এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে বাগান বা স্কুলের বারান্দায় রাত কাটিয়ে স্থান পরিবর্তন করছিলেন। টানা অভিযানের একপর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অভিযোগ অনুযায়ী হত্যার কাজে ব্যবহৃত কাঠের লাঠিও উদ্ধার করা হয়েছে।
