মিয়ানমারে দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে সম্প্রতি তিন ধাপে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) নির্বাচনে ব্যাপক জয়লাভ করেছে।
গত বছর ডিসেম্বরে শুরু হয়ে গত সপ্তাহে শেষ হওয়া এই নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, ইউএসডিপি জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষে ২৬৩টির মধ্যে ২৩২টি এবং উচ্চকক্ষে ১৫৭টির মধ্যে ১০৯টি আসন পেয়েছে। এর মাধ্যমে সংসদের উভয় কক্ষেই দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশজুড়ে চলমান সংঘাত, নিপীড়ন ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এমন ফলাফল প্রত্যাশিতই ছিল।
এদিকে, নির্বাচনের এই ফলাফলকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহল গ্রহণ করতে অস্বীকার করছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ান (অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এখনই এই নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। আসিয়ানের বর্তমান চেয়ারম্যান দেশ ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বলেছেন, “আসিয়ান এখনও মিয়ানমারের এই ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করেনি। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় জোট আপাতত নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না।”
কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাও নির্বাচনকে “প্রহসন” আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভোটগ্রহণই সম্ভব হয়নি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও দমনের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়েছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা দাবি করেন, সামরিক কর্তৃত্বকে বৈধতা দিতেই এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।
তবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও জনগণের সমর্থনপ্রাপ্ত বলে দাবি করেছে।
সেনাসমর্থিত ইলেভেন মিডিয়া গ্রুপের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, নির্বাচিত সংসদ আগামী মার্চ মাসে বৈঠক করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। নতুন সরকার এপ্রিল মাসে ক্ষমতা গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
