নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় একটি ফেরি পরিষেবা উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে হাতিয়ার নলছিরা ফেরি ঘাট এলাকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পূর্বঘোষিত একটি কর্মসূচি উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে। হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল আলম সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ফেরি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এনসিপি উভয় দলের নেতাকর্মীরা নলছিরা ঘাটে জড়ো হন। এ সময় পাল্টাপাল্টি স্লোগানকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নলছিরা ঘাট এলাকার এক বাসিন্দা নাহিদ উদ্দিন বলেন, “ফেরি চালুর কৃতিত্ব নেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সেটি মারামারিতে রূপ নেয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।”
আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরপরই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেয়। এনসিপির পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ তুলে দায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। এনসিপির প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে হাতিয়া থানা ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “পতিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে বিএনপি প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম হাতিয়াতে সন্ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করতে চাচ্ছেন।”
অন্যদিকে, বিএনপি তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে ঘটনার জন্য এনসিপিকে দায়ী করে। বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, “কারা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে হাতিয়ার মানুষ সবই জানে।” তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “এনসিপির লোকজনই বিনা কারণে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, “মারামারির খবর পেয়েছি। তবে আহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ফেরি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সহিংসতার এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
