ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো প্রচারণার ব্যয়ের ওপর নজরদারি জোরদার করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভোটের প্রচারে যে অর্থ ব্যয় হবে, তা নির্বাচনের পর সামগ্রিক নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে প্রার্থীদের।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রার্থীরা কোন কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রচার চালাচ্ছেন, সেই তথ্যও আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার রোধ এবং নির্বাচনি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট বা তাদের পক্ষে অন্য কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী প্রচার শুরুর আগেই ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্মের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ প্রয়োজনীয় শনাক্তকরণ তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে হবে।
একই বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন, পোস্ট বুস্টিং কিংবা স্পন্সরশিপের পেছনে যে অর্থ ব্যয় হবে, তা প্রার্থীর মোট নির্বাচনি ব্যয়ের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যেক প্রার্থীকে তার নির্বাচনি ব্যয়ের বিবরণী জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে ফল প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ডিজিটাল প্রচারণায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং নির্বাচনি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
