নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে ১,০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নামছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সারা দেশে এক হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন। ভোটগ্রহণের দুই দিন পর পর্যন্ত তারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা পাবেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকি, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স—বিশেষ করে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও সশস্ত্র বাহিনীর টিমকে দিকনির্দেশনা দেবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৫ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (সংশোধিত ২০০৯) এর ১০(৫) ধারার বিধান অনুযায়ী এসব কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা নির্ধারিত এলাকায় নির্বাচনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবশ্যিকভাবে যোগদান করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ওই দিন রাত ৮টার মধ্যে যোগদান সংক্রান্ত প্রতিবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতে নিয়োগপ্রাপ্তরা ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় এবং খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে নিয়োগপ্রাপ্তরা একই দিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জুম প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। সংশ্লিষ্ট জুম মিটিংয়ের আইডি ও পাসকোড তাদের মোবাইল ফোন ও ই-মেইলে পাঠানো হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব বণ্টন ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার এলাকা নির্ধারণ করবেন। প্রতিদিন পরিচালিত মোবাইল কোর্টের তথ্য নির্ধারিত ছকে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করতে হবে।

নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।