সরকারি চাকরিজীবীরা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে পারবেন না, কিন্তু উপদেষ্টাদের বাধা নেই: নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনার বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সরাসরি আইনি জটিলতা না থাকলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো পক্ষেই প্রচার বা অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের জন্য এমন কোনো বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য হবে না।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা গণভোটের প্রয়োজনীয়তা বা বিষয়টি নিয়ে প্রচার ও জনসচেতনতা তৈরি করতে পারবেন, কিন্তু ভোটারদের সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাতে পারবেন না। এই নির্দেশনা স্পষ্ট করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, যেহেতু প্রধান উপদেষ্টা ও সরকারি উপদেষ্টারা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত’ কর্মকর্তা নন, তাই গণভোটে তাদের পক্ষালম্বনে কোনও আইনি বাধা নেই।

গণভোটের প্রস্তুতি পর্বে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে জাতির উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টারাও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সক্রিয় প্রচার চালাচ্ছেন। সরকারের ব্যাপক প্রচার কার্যক্রমও মূলত ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই পরিচালিত হচ্ছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে।

কী বলে আইন?

গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২১ ধারা এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ৮৬ ধারা অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের কাজে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি (সরকারি কর্মচারী) গণভোটের বিষয়ে জনগণকে অবহিত বা সচেতন করতে পারবেন। তবে তিনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য সরাসরি আহ্বান জানাতে পারবেন না। এরূপ করা গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করার শামিল এবং তা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

আরপিওর ৮৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, যদি কোনো সরকারি কর্মচারী তার পদমর্যাদার অপব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তাহলে তিনি অনধিক পাঁচ বছর এবং অন্যূন এক বছরের কারাদণ্ড অথবা জরিমানার শিকার হতে পারেন।

নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ ও আরপিওর সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরিত চিঠিতে তুলে ধরা হবে, যাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আইনের সীমার মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করেন।

বৃহৎ কর্মীবাহিনী ভোট দায়িত্বে

ভোটের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ইতিমধ্যে ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৬০০ সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং সহস্রাধিক নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন। গণভোটের দিন কাজ করবেন আট লাখেরও বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং নয় লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে ভোটের কাজে নিয়োজিত সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য গণভোটের সাধারণ প্রচারে অংশ নেওয়ায় বাধা নেই, কিন্তু কেউই ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’র পক্ষে আনুষ্ঠানিক অবস্থান নিতে বা সে আহ্বান জানাতে পারবেন না।