স্ত্রী-সন্তানের আত্মহত্যার পর জামিনে মুক্তি পেলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম, দাবি তদন্তের

যশোর জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম।

বুধবার দুপুরে উচ্চ আদালতের আদেশ পাওয়ার পর তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

মুক্তি পাওয়ার পরই সাদ্দাম তার বাগেরহাটের সাবেকডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে ফিরে স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও নয় মাসের সন্তান নাজিফ হাসানের কবর জিয়ারত করেন।

সাদ্দাম জুলাই আন্দোলনের সময়কার একটি মামলায় গত বছর এপ্রিল মাস থেকে কারাবন্দি ছিলেন। গত শুক্রবার তার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের বাড়ি থেকে স্ত্রী ও সন্তানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের বর্ণনায়, সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে থাকা অবস্থায় এবং ছেলেকে মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন সাদ্দামের শ্বশুর।

স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়েও সাদ্দাম তখন কারাগার থেকে মুক্তি পাননি। শনিবার সন্ধ্যায় তাদের লাশ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে শেষবারের মতো তাদের স্পর্শ করে দেখার সুযোগ পান তিনি। এরপর তাকে আবার কারাগারে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়।

স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় অংশগ্রহণ করতে না পারায় এবং তাকে ‘প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায়’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে সমালোচনা তৈরি হয়। এরমধ্যে সোমবার উচ্চ আদালত সাদ্দামের ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর বুধবার তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

জামিনে বেরিয়ে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন সাদ্দাম। তিনি তার গ্রেপ্তার ও মামলাগুলোকে উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাগেরহাটের অন্তত ১১টি মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আমার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে, প্রতিটি মামলার সময় আমি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে ছিলাম। আমি যদি অপরাধী হতাম, তাহলে দেশে ফিরতাম না। আদালতে পাসপোর্ট দেখিয়েও আমার জামিন হয়নি।”

তিনি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী তার জামিন করাতে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন এবং ব্যর্থ হয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সাদ্দাম বলেন, “আমাকে যদি ফোন কলের সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে আমার হতাশাগ্রস্ত স্ত্রীকে বুঝাতে পারতাম, সান্ত্বনা দিতে পারতাম। আমাকে বাগেরহাট থেকে যশোর কারাগারে পাঠানোয় তিনি নিয়মিত দেখা করতে পারেননি, যা তার হতাশা বাড়িয়ে দিয়েছে।”

স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুকে তিনি সন্দেহজনকভাবে চিহ্নিত করে বলেন, “স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমি দাবি করছি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তি পাইনি, তাদের লাশ ধরতে পারিনি, পাশে থাকতে পারিনি। আজ স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে আমার জামিন হলো।”

সাদ্দাম তার এই দুঃসহ অভিজ্ঞতার আলোকে জেলবন্দিদের সাথে পরিবারের যোগাযোগের সুযোগ বৃদ্ধির দাবি জানান, যাতে অন্য কেউ এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়।