তারেক রহমানের শপথে পরই নতুন সরকারের যাত্রা

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। তাঁর শপথের পর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও শপথ গ্রহণ করেন। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথ পড়ান।

এর মাধ্যমে প্রায় দুই যুগ পর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।

গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পায়। দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকেরা আরও ৩টি আসনে বিজয়ী হয়।

বাংলাদেশের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে এবার অনুষ্ঠানটি রাষ্ট্রপতি ভবন বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হয়। এতে দেশি–বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানসহ ১৩টি দেশের প্রতিনিধিদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

সাদা জামা ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে অনুষ্ঠানে আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত দেখা যায়। তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে শপথস্থলে প্রবেশ করলে উপস্থিত অতিথিরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

এর কয়েক মিনিট পর বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি শপথগ্রহণস্থলে প্রবেশ করেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

প্রথমে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম ও শেখ রবিউল আলম।

মন্ত্রীদের শপথের পর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলাম, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো।