ঢাকার আকাশে মেঘ-রোদের লুকোচুরি, বৃষ্টির সম্ভাবনা; শনিবার থেকে কমতে পারে তাপমাত্রা

টানা তিনদিনের তাপপ্রবাহের পর রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুক্রবার বৃষ্টি হয়েছে। সকালে ঢাকার আকাশে মেঘের উপস্থিতি দেখা গেলেও পরে আবার রোদের দেখা মেলে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টি কখন হবে এবং এর পরিমাণ কত হবে, তার ওপরই নির্ভর করবে গরম কতটা কমবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগেই দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিপাতেরও আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, রাজধানীর আকাশে বর্তমানে মেঘ রয়েছে এবং বৃষ্টির সম্ভাবনাও আছে। তবে দিনের বেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তারপরও দিনের যেকোনো সময়ে বৃষ্টি হতে পারে। দিনে না হলেও রাতের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, দিনের বেলায় বৃষ্টি হলেও পরে আবার রোদ উঠতে পারে। তবে চলমান তাপপ্রবাহ বৃষ্টির কারণে কিছুটা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এখন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা দেশের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময়। এ সময়ে স্থানীয়ভাবে প্রচুর মেঘ সৃষ্টি হয়। ফলে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়া এবং অল্প সময়ের মধ্যে তা থেমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। অনেক সময় মেঘের অবস্থান নিচু স্তরে থাকায় বৃষ্টির সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া জটিল হয়ে পড়ে।

এদিকে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর দিয়ে এখনো মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, ঢাকা, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, রাঙামাটি ও লক্ষ্মীপুর জেলাসহ রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

তবে আবহাওয়া অফিস বলছে, বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের কিছু অঞ্চলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা কমে আসতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়েছে, বৃষ্টির কারণে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম এবং অস্বস্তিকর আবহাওয়া আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থার বিষয়ে অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কক্সবাজার উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুর ও যশোরে, ৩৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, ৪৪ মিলিমিটার।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আগেই চলতি জুন মাসে তুলনামূলক বেশি গরমের পূর্বাভাস দিয়েছিল। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেই গরমের প্রভাব অনুভূত হচ্ছে। তবে অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করতে পারে।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, চলতি বছরে এত বিস্তৃত এলাকায় তাপপ্রবাহের ঘটনা আগে দেখা যায়নি। তিনি জানান, জুন মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে।

শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মাসে রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে অন্যতম।

সাধারণত দেশে সবচেয়ে বেশি গরম পড়ে এপ্রিল মাসে এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গরম থাকে মে মাসে। তবে চলতি বছর এই দুই মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। অথচ জুন মাসে মৌসুমি বায়ু প্রবেশের সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো এর পূর্ণ প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। তিনি বলেন, আজ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত বছর দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটেছিল ২৫ মে। সাধারণত ৩১ মে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশ করে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মৌসুমের শুরুতে সাধারণত বৃষ্টিপাতও বৃদ্ধি পায়। তবে এবার মৌসুমি বায়ুর আগমন বিলম্বিত হওয়ায় বৃষ্টিপাতও দেরিতে শুরু হতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা।