হরমুজ প্রণালির কৌশলগত দ্বীপ কেশমে ফের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বুধবার (১০ জুন) স্থানীয় সময় দুপুরে আবারও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যদিও এর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
ইরানি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানায়, নতুন এই বিস্ফোরণের উৎস সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তাদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, “আজ ভোর থেকে হরমুজগান প্রদেশ ও পারস্য উপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলো আমেরিকান শত্রুদের হামলার মধ্যে রয়েছে। তবে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত এর জবাব দিয়েছে।”
উত্তপ্ত পরিস্থিতির সূত্রপাত
গত সোমবার হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা থেকে নতুন করে উত্তেজনার সূচনা হয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হেলিকপ্টারটি ইরান ভূপাতিত করেছে। এরপর তিনি পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দেন।
তার এই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইরানের উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
পাল্টা হামলার দাবি
এর জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা যায়।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ঘোষণা
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে ইরানের বিপ্লবী গার্ডও সামরিক অভিযান স্থগিত করার কথা জানায়। তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে আবারও কোনো আগ্রাসন হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
কূটনৈতিক যোগাযোগ
উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন।
এদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান এই সংঘাত পরিস্থিতি আন্তর্জাতিকভাবে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে, যেখানে উভয় পক্ষই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
