রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী

সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও এ বিষয়ে সরকার আইনগত ও সাংবিধানিক দিক পর্যালোচনা করে যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যাতে অন্যায়ের শিকার না হন, সে বিষয়টিও সরকার সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

রোববার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে নবীন আইনজীবীদের জন্য আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা দাবি তুলেছে। সরকার এসব দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টির আইনগত দিক, বাস্তবতা এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হবে।

তিনি বলেন, “জনমতের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে একইসঙ্গে আমরা চাই না কেউ অযথা হয়রানির শিকার হোক। তাই সবকিছু পর্যালোচনা করেই সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।”

গত শুক্রবার স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিচারের দাবি জানায়।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মতামত ও দাবি জানাতে পারে। তবে কোনো দাবি কতটা যৌক্তিক এবং আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা যাচাই করার দায়িত্ব সরকারের।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। পদত্যাগের দিন থেকেই এই সময় গণনা শুরু হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির বিদেশ যাত্রার ওপর কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, এ ধরনের বিষয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর অগ্রগতির বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বাইরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফাস্ট ট্র্যাক ব্যবস্থার আওতায় এনে এসব মামলার বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধিতে নতুন ধারা সংযোজনের মাধ্যমে অভিযোগ যাচাইয়ের সুযোগ আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেকোনো অভিযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। এ ধরনের ঘটনার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী দেশের বিচারব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেন। তিনি নবীন আইনজীবীদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, পেশাগত সততা রক্ষা এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলামসহ বিচার বিভাগ ও আইন অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং এ সংক্রান্ত রাজনৈতিক আলোচনা যখন জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে, তখন আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য সরকারের অবস্থান সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সব ধরনের সিদ্ধান্ত আইন, সংবিধান এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নেওয়া হবে।