দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও সীমান্তবর্তী উজান এলাকায় আগামী কয়েকদিন ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় কয়েকটি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন কেন্দ্রটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টা পর থেকে সিলেট, ময়মনসিংহ ও উত্তরাঞ্চলের উজান এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। সম্ভাব্য এই বৃষ্টিপাত তিন থেকে চারদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদ-নদীর পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে বেশ কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়ের উজান এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাশাপাশি ভারতের সীমান্তবর্তী উজান এলাকাগুলোতেও ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে কয়েকটি নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি গত এক দিনে কিছুটা বেড়েছে। আগামী একদিন পানি স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী কয়েকদিন বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এ সময় নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যে সুরমা নদীর পানি বাড়ছে এবং এ প্রবণতা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী দিনগুলোতে তা আবার বাড়তে পারে। এ অবস্থায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলে তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানির প্রবাহেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে তিস্তা নদী লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
ময়মনসিংহ অঞ্চলেও একই ধরনের পরিস্থিতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানি বাড়ছে, আর ভুগাই নদীর পানি সামান্য কমলেও সামনের দিনগুলোতে পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার নদীঘেঁষা নিচু এলাকা কিছু সময়ের জন্য প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানিও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। উজানের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিন এ নদীগুলোর পানির উচ্চতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের মাত্রা ও উজানের প্রবাহের ওপর নির্ভর করে প্রয়োজন হলে নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হবে।
