নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। এ ধরনের অপরাধকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, পৃথক নদী আদালত প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান রেখে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সংসদে ময়মনসিংহ-৬ আসনের সদস্য মো. কামরুল হাসানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীর লিখিত উত্তর উপস্থাপন করা হয়।
দেশে নদীর সংখ্যা ১ হাজার ৪১৫
সংসদে দেওয়া তথ্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং নদীসংশ্লিষ্ট কর্মীদের সহায়তায় প্রস্তুত তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে দেশে নদ-নদীর সংখ্যা ১ হাজার ৪১৫টি।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ওয়েবসাইটে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশনার পর আইন সংশোধন
মন্ত্রী জানান, দেশের নদীগুলোকে অবৈধ দখল ও দূষণ থেকে রক্ষা এবং নদীর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে জনস্বার্থে দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে আরেকটি মামলার রায়ে হাইকোর্ট জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে দেশের নদ-নদীর আইনগত অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করে। একই সঙ্গে কমিশনের হাতে কার্যকর বাস্তবায়ন ক্ষমতা না থাকায় বিদ্যমান আইন সংশোধনের নির্দেশনা দেয়।
নতুন আইনে থাকছে কঠোর শাস্তির বিধান
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, নদীর স্বার্থ সংরক্ষণ এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বর্তমানে আইন সংশোধনের কাজ চলছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া নদীসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক নদী আদালত প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।
নতুন আইনে নদী দখল ও দূষণের অভিযোগ তদন্ত, অনুসন্ধান, পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির মূল্য নির্ধারণ, ক্ষতিপূরণ আদায়, মামলা দায়ের এবং মামলার অগ্রগতি তদারকির ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
নদী রক্ষায় আরও শক্তিশালী ভূমিকার প্রত্যাশা
সংশোধিত আইন কার্যকর হলে নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছে সরকার। একই সঙ্গে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনও আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে বলে সংসদে মত প্রকাশ করেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী।
