শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্ধত্বের ঝুঁকি কমাতে আগামী ২৭ জুন দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরাঞ্চল পর্যন্ত ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শিশুদের কাছে সহজে সেবা পৌঁছে দিতে স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি বিশেষ মোবাইল কেন্দ্রও পরিচালিত হবে।
লক্ষাধিক কেন্দ্রে চলবে ক্যাম্পেইন
ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য সারাদেশে ১ লাখ ১০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশনসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র পরিচালিত হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, যেসব পরিবার নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে পারেন না, তাদের শিশুদেরও এই কর্মসূচির আওতায় আনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দুর্গম এলাকায় বিশেষ উদ্যোগ
উপকূলীয় ও হাওর-বাঁওড়সহ দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ নিশ্চিত করতে ১২ জেলার ৫৮টি উপজেলার ১৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডকে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
এ জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে বরগুনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা, নোয়াখালী, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও সিলেট।
ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পরও এসব এলাকায় চার দিনব্যাপী ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ কার্যক্রমে পুষ্টি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা থাকবে।
ঢাকায় কেন্দ্রীয় উদ্বোধন
রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয়ভাবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. শাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
জেলা-উপজেলায়ও উদ্বোধনী কর্মসূচি
দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকায় কার্যক্রম তদারকি করবেন।
মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে।
নজরদারিতে থাকবে স্বাস্থ্য বিভাগ
কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কর্মকর্তারাও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
আগেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ক্যাপসুল
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাগার থেকে ২০ থেকে ২৪ জুনের মধ্যে জেলা পর্যায়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহ করা হয়েছে। পরে জেলা থেকে উপজেলা এবং উপজেলা থেকে ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে ক্যাপসুল পাঠানো হয়েছে।
অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
ক্যাম্পেইন উপলক্ষে স্বাস্থ্য বিভাগ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- জন্মের পরপরই নবজাতককে শালদুধসহ মায়ের দুধ খাওয়ানো শুরু করতে হবে।
- জীবনের প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধু মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।
- ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি সুষম খাবার দিতে হবে।
- ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুকে একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।
- ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে বছরে দুইবার একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।
- গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর দৃষ্টিশক্তি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নির্ধারিত দিনে অভিভাবকদের সন্তানদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
