দেশের জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, সংখ্যা ১৬ লাখের বেশি

বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বলে জাতীয় সংসদে তথ্য তুলে ধরেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, গেজেটভুক্ত ৫০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বর্তমানে দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রয়েছে এবং তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তার লিখিত উত্তর উপস্থাপন করা হয়।

৫০টি নৃ-গোষ্ঠী গেজেটভুক্ত

সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০’-এর সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী বর্তমানে দেশে গেজেটভুক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০টি।

তিনি বলেন, এসব জনগোষ্ঠী দেশের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

জনশুমারিতে উঠে এসেছে নতুন তথ্য

নিতাই রায় চৌধুরী সংসদে জানান, জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২-এর প্রাথমিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী তফসিলভুক্ত এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মিলিয়ে দেশে মোট ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯ জন মানুষ রয়েছে।

এ সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ

মন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, জীবনধারা এবং সামাজিক পরিচয় রক্ষায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে উৎসব, গবেষণা, প্রকাশনা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা অব্যাহত

সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের জন্য সরকার আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে কাজ করছে।

তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এসব জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকবে।