বই পড়ার সুযোগকে শহরকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে সরকার। বর্তমানে ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গাড়ির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার ৩৬৮টি উপজেলা ও থানার প্রায় ৩ হাজার ২০০ স্থানে নিয়মিত বই ও পাঠসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মন্ত্রীর লিখিত উত্তর উপস্থাপন করা হয়।
প্রান্তিক মানুষের কাছে বই পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রমের মাধ্যমে এমন জনগোষ্ঠীর কাছেও বই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাদের নিয়মিত গ্রন্থাগারে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে নারী, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, বইকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করারও চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সঙ্গে থাকবে আধুনিক গ্রন্থাগার
নিতাই রায় চৌধুরী জানান, পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের একটি তলা জনসাধারণের জন্য গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে বই পড়া, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি করা হবে।
প্রথম ধাপে ২৬ উপজেলায় সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স
মন্ত্রী জানান, প্রকল্পের প্রথম ধাপে ২৬টি উপজেলায় সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের লক্ষ্যে সমীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবও প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্প অনুমোদন পেলে ধাপে ধাপে দেশের সব উপজেলায় আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স ও গ্রন্থাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রামের দুই উপজেলাও পাবে সুবিধা
সংসদে দেওয়া তথ্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কুড়িগ্রাম-১ আসনের ভুরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন সাংস্কৃতিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
তার মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বই পড়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে এবং তরুণদের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক ও সংস্কৃতিমনস্ক সমাজ গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
