নদীর ওপর অপরিকল্পিতভাবে সেতু নির্মাণ অব্যাহত থাকলে দেশের নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, পদ্মা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের ফলে নদীটির বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একই ধরনের প্রকল্প ভবিষ্যতে নদীগুলোর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা Plan International আয়োজিত ‘দুর্বার কন্যা’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পদ্ধতিতে সেতু নির্মাণ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। পদ্মা নদীর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, নদীটির বড় অংশ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যমুনাসহ অন্যান্য নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে নদীর পরিবেশগত প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণ ও কিশোরীদের নেতৃত্বকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সচেতন নাগরিক সমাজ ও তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি বলেন, জনমত শক্তিশালী হলে সরকারও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা, চরাঞ্চল ও বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের সমস্যা ভিন্ন হওয়ায় সমাধানও হতে হবে অঞ্চলভিত্তিক।
তিনি বিশেষভাবে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলাসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানার অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে কৃষিজমি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক দূষণ রোধে তরুণদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘দুর্বার কন্যা’ কর্মসূচির ধারণা তুলে ধরেন কবিতা বোস। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি কর্মসূচি নয়, বরং কিশোরী ও তরুণীদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনের একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ।
কবিতা বোস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সব মানুষের ওপর সমানভাবে পড়ে না। উপকূলীয় এলাকার কিশোরী, চরাঞ্চলের কৃষক কিংবা হাওর অঞ্চলের নারীরা ভিন্ন ভিন্নভাবে এই সংকটের মুখোমুখি হন। তাই বাস্তবতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ ছাড়া কার্যকর ও টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশকর্মী, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং তরুণ নেতারা অংশ নেন। তাঁরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
