ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার ৪৩ দিন পরও বিচার না হওয়ায় জাহাঙ্গীরনগরে নারী শিক্ষার্থীদের মশালমিছিল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার ৪৩ দিন পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব এবং প্রশাসনের অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে বুধবার রাতে মশালমিছিল করেছেন নারী শিক্ষার্থীরা।

রাত সোয়া ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’-এর ব্যানারে মশালমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বটতলা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং তদন্তের অগ্রগতিও শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়নি। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।

ইতিহাস বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, ঘটনার ৪৩ দিন পরও অভিযুক্তের পরিচয় ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাঁচ দিনের মধ্যে প্রকাশের কথা থাকলেও এখনো তা প্রকাশ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রক্টরিয়াল প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পরও একাধিক হয়রানির ঘটনা ঘটেছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রমাণ। প্রক্টরিয়াল প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হল-সংলগ্ন সড়ক থেকে এক ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকার স্থানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন ভুক্তভোগী।

ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলাটির তদন্তভার সম্প্রতি অপরাধ তদন্ত বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা না হলে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে। তাই বিচার প্রক্রিয়ায় গতি আনা এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।