জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের আবাসন ও অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্পের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত প্রথম ডিন’স অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “কিছুক্ষণ আগে আমি সচিব সাহেবের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তিনি বলছিলেন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস হতে হতে আমরা নাকি ফসিল হয়ে যাব। আমি বললাম, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললে কাজ দ্রুত হয়ে যাবে। আমরা চেষ্টা করছি, এক বছরের মধ্যে অন্তত একটি হল যেন সম্পূর্ণ করা যায়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, পাশেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কোয়ার্টার রয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে চার শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের মোট ১০৪ জন শিক্ষার্থীকে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এর মধ্যে কলা অনুষদের ২১ জন, বিজনেস স্টাডিজের ১৬ জন, বিজ্ঞান অনুষদের ১৫ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৭ জন, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সের ২৯ জন, আইন অনুষদের ৩ জন এবং চারুকলা অনুষদের ৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব হল শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়া। আজ যারা ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পেলেন, তারা অনুপ্রাণিত হলেন। এই স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি সমাজের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।”
জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশের বৃহৎ জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার বিস্তারেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “অনেক উন্নত দেশে জনসংখ্যার ঘাটতি রয়েছে, আর আমাদের দেশে মৃত্যুহারের চেয়ে জন্মহার বেশি। এই বিশাল জনসংখ্যাই আমাদের সম্পদ, আর একে জনসম্পদে পরিণত করতে পারেন শিক্ষকেরা।”
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং মানোন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেক বলেন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সহযোগিতা করা হবে।
ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ বলেন, আবাসনসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চাকরি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দীন বলেন, ডিন’স অ্যাওয়ার্ড নীতিমালা ২০২২ সালে প্রণয়ন হলেও এবারই প্রথম তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতা ও বিসিএস পরীক্ষায় সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।
দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এর আগে শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ প্রকল্প বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে ইউজিসির মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের কোনো আপত্তি নেই।
২০১৬ সালে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় প্রায় ২০০ একর জমির ওপর দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ১ হাজার ৯২০ কোটি টাকার প্রকল্পটি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে এবং অবকাঠামোগত বিভিন্ন কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে।
