দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় যন্ত্রপাতি অচল থাকা এবং চিকিৎসক সংকটের চিত্র তুলে ধরে জাতীয় সংসদে তথ্য দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শত শত এক্স-রে ও আলট্রাসাউন্ড যন্ত্র অকেজো হয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের ৯ হাজার ৪০৭টি পদ শূন্য রয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের ৩১০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৮৫টি এক্স-রে যন্ত্র অকেজো রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ মেরামতের অযোগ্য। বাকি ৬০ শতাংশ মেরামতের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া ২৫২টি হাসপাতালে ৩৯৫টি আলট্রাসাউন্ড যন্ত্র অকেজো অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ মেরামতের অযোগ্য এবং অবশিষ্ট ৬৫ শতাংশ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালের রোগীর চাপ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যার তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। এ কারণে হাসপাতালগুলোর পরিচ্ছন্নতা, বিশেষ করে শৌচাগার ব্যবস্থাপনা সার্বক্ষণিকভাবে বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সংসদে তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেসব ওয়ার্ডে এখনো কমিউনিটি ক্লিনিক নেই, সেখানে জমি প্রাপ্তি ও বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে আরও ৫৪০টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
চিকিৎসক সংকট সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত চিকিৎসকের মোট পদ ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে ৯ হাজার ৪০৭টি পদ শূন্য রয়েছে।
তিনি জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে দ্রুত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এমআরআই, সিটি স্ক্যান, কৃত্রিম বৃক্ক পরিশোধন ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয়ের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে সরকার। বর্তমানে চারটি এমআরআই যন্ত্র ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মাতৃমৃত্যু প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সন্তান প্রসবের সময় কোনো মায়ের মৃত্যু হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বর্তমানে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান নেই।
দেশে ক্যানসারের পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মাধ্যমে ক্যানসার রোগীদের নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে জনসংখ্যাভিত্তিক এবং হাসপাতালভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থার ২০২২ সালের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ জন নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হন। একই সময়ে ক্যানসারে মৃত্যু হয় প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ জনের। বর্তমানে দেশে আনুমানিক ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪১৭ জন ক্যানসার রোগী জীবিত রয়েছেন অথবা চিকিৎসাধীন আছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নারীদের মধ্যে স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস এবং মুখ ও ঠোঁটের ক্যানসারের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি।
