রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের এক কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা এবং ‘গুমের নাটক’ সাজানোর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। রোববার (১৪ জুন) দুপুর ২টার দিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি ফলক চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল ‘বাহ শফিক চমৎকার, ধর্ষকের পাহারাদার’, ‘ধর্ষকের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’ এবং ‘তুই ধর্ষক, তুই ধর্ষক, জামাত-শিবির ধর্ষক’সহ একাধিক প্রতিবাদী স্লোগান। তারা অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভুক্তভোগীদের অবমাননা করে ‘গুম ও অপহরণের নাটক’ সাজানো হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিতভাবে সরকারবিরোধী মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সংগঠনটির কিছু নেতাকর্মী নারী নির্যাতনসহ গুরুতর অপরাধে জড়িত বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের উত্তরসূরিরা এখন নতুনভাবে সমাজে সক্রিয় হয়েছে। তারা ইসলামের নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে তিনি দাবি করেন।
একই সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম বলেন, পরিচয় গোপন করে কিছু ব্যক্তি অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে এবং সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। ধর্ষণসহ যেকোনো অপরাধে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে ছাত্রদল আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হওয়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশের দাবি, তিনি অপহরণের শিকার হননি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের পরিচয় গোপন করে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি আত্মগোপনে যান বলে শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
