অভিবাসন খাতে প্রতারণা বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রী নুরের

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণা ও অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আইন লঙ্ঘন করে প্রতারণা চালিয়ে গেলে কেউ রেহাই পাবে না। একই সঙ্গে দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী অধিকাংশ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রয়োজন হলে লাইসেন্স বাতিলেরও ইঙ্গিত দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (ওইপি) আওতায় অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থাপনা মডিউলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় তিন হাজার রিক্রুটিং লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান থাকলেও অধিকাংশই বিভিন্ন ধরনের অনিয়মে জড়িত। তার ভাষায়, নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালিত হলে চার থেকে পাঁচশটির বেশি লাইসেন্স টিকে থাকার কথা নয়।

প্রতারক চক্রের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা তাদের ওপর নজরদারি করছে। এখনই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না করলে কঠোর আইনি পরিণতি ভোগ করতে হবে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার স্বচ্ছ ও কম ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া চালুর লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সরকারি অনুমোদনের আগেই অর্থ নেওয়া বা কর্মী নিবন্ধনের নামে বিজ্ঞাপন প্রচারকে তিনি অভিবাসন আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি আরও বলেন, ভুয়া ও অনিয়মে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ঘুষ বা অন্য কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ জানান, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয়, বিএমইটি এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সহজ হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর একটি হলো ‘প্রবাসী কার্ড’। এই কার্ডে অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে প্রবাসীরা আরও সহজে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সিস্টেক ডিজিটাল লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় তৈরি অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থাপনা মডিউলটি বিএমইটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং দেশের সব জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করবে। এর মাধ্যমে প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ঘরে বসেই অভিযোগ দাখিল, প্রয়োজনীয় নথি আপলোড এবং অভিযোগের অগ্রগতি অনলাইনে অনুসরণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে বিএমইটির কর্মকর্তারা তদন্ত, সালিস, নিষ্পত্তি ও প্রতিবেদন তৈরির পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে দ্রুত সম্পন্ন করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, রামরুর নির্বাহী পরিচালক তাসনীম সিদ্দিকীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।