সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন, প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা যাচাইয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান: শিক্ষামন্ত্রী

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে তাড়াহুড়োর অভিযোগ তুলে নিয়োগপ্রক্রিয়ার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

রোববার (১৪ জুন) ঢাকায় শেরাটন হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রাথমিক পর্যায়ে সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর ভাষায়, “আমি জানি না কেন তারা এত তাড়াহুড়ো করে রাতারাতি শিক্ষকদের নির্বাচন করেছে। এতে তাদের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একদিকে আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি, অন্যদিকে তাদের প্রশিক্ষণে পাঠানো হচ্ছে এবং দুই বছরের জন্য প্রো-কন্ট্রাক্ট ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, দেশে প্রাথমিক শিক্ষাখাতে বড় ধরনের জনবল সংকট ও নিয়োগ জটিলতা রয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য থাকলেও মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আরও ৪৭ হাজার পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে আছে।

তিনি বলেন, “সব মিলিয়ে প্রায় ৮৭ হাজার পদে আমরা নিয়োগ বা পদোন্নতি দিতে পারছি না, যা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থগিত রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৮৩ হাজার মামলা বিচারাধীন থাকায় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে, যা মোট বাজেটের প্রায় ২ শতাংশ। তবে শিক্ষার ফলাফল বা লার্নিং আউটকাম এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাঠদানকে আনন্দময় করতে পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম যুক্ত করা হচ্ছে।

এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া রোধে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ, মিড-ডে মিল চালু এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরীসহ শিক্ষাবিদ ও ইউনিসেফের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।