বিআরটি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ, অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভা

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে বিমানবন্দর-গাজীপুর বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি, কারিগরি বিষয় এবং সম্ভাব্য সুফল নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, সভায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত বিস্তৃত বিআরটি করিডরের বর্তমান বাস্তবায়ন অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিচালনা কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় অংশ নেওয়া যোগাযোগ ও পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পটির নকশা, স্টেশন ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা, পরিচালন পদ্ধতি এবং সামগ্রিক কার্যকারিতা বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। তারা বলেন, রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান যানজট মোকাবিলা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার মানোন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য প্রকল্পটির দ্রুত ও সুষ্ঠু বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা বিআরটি চালুর পর যাত্রীদের সময় সাশ্রয়, যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধি এবং সড়কপথে যানবাহনের চাপ কমার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তারা মনে করেন, আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার বিকাশে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং পরিবহন খাতের শীর্ষ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মঈনুল হাসান।

এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. শামসুল হক, অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দীন হাসান, অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান ও অধ্যাপক রাকিব আহসানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা অভিমত দেন, বিমানবন্দর-গাজীপুর রুটে বিআরটি সেবা চালু হলে রাজধানীর উত্তরাঞ্চল ও গাজীপুরগামী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে। একই সঙ্গে এটি যানজট নিরসন এবং একটি আধুনিক, নির্ভরযোগ্য ও সময়সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।