সীমান্ত ইস্যুতে সংসদে বিতর্ক, রাজপথে প্রতিবাদ

  • বিএসএফের ‘পুশ ইন’ ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের দাবি

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কথিত ‘পুশ ইন’ কার্যক্রম এবং সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা বন্ধের দাবিতে জাতীয় সংসদ ও রাজপথে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সংসদে নির্ধারিত একটি সাধারণ প্রস্তাবের আলোচনা শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। একই সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ভারতের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছে বিএনপি।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ১৪৭ ধারার আওতায় বিএসএফের অবৈধ পুশ ইন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঘোষিত পুশ ইন কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে একটি সাধারণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)। রোববার এ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

সংসদ সচিবালয়ের প্রকাশিত কার্যসূচিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। এ বিষয়ে মীর আহমাদ বিন কাসেমকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, অনিবার্য কারণে স্পিকার আলোচনাটি স্থগিত করেছেন।

অধিবেশনের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, জনগণের জীবন ও সীমান্তে রক্তপাতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কী বিষয় থাকতে পারে, যার কারণে এমন একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর আলোচনা স্থগিত করতে হলো। একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, প্রস্তাবটি পুনরায় কবে আলোচনার জন্য নির্ধারণ করা হবে।

জবাবে সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, এটি কেবল সাময়িক স্থগিতাদেশ। বর্তমানে বাজেট অধিবেশন চলমান থাকায় সময় সংকট রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে নোটিশটি আলোচনার জন্য পুনরায় উত্থাপনের সুযোগ থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভারতীয় পুশ ইনের প্রতিবাদে সমাবেশ করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম। সেখানে প্রধান অতিথিদের একজন হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

তিনি বলেন, সীমান্তে পুশ ইন কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে প্রস্তুত।

ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে উদ্দেশ করে আলাল বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উদ্বেগের বিষয়গুলো দিল্লির নীতিনির্ধারকদের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতের অভ্যন্তরে ধর্মীয় বিভাজন ও মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই পরিচালিত হওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মর্যাদা ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের সাধারণ সম্পাদক কে এম আই মন্টিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।