সংসদের সাউন্ড সিস্টেম বদলে আধুনিকায়নের উদ্যোগ

জাতীয় সংসদের কার্যক্রম আরও আধুনিক, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিদ্যমান সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভবনে উচ্চ পর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সাউন্ড সিস্টেম এবং সেগুলোর সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সভায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সরকার দলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় জাতীয় সংসদের বিদ্যমান সাউন্ড সিস্টেমের বর্তমান অবস্থা, এর সীমাবদ্ধতা এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এ সময় গণপূর্ত অধিদপ্তর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ ভবনে ব্যবহৃত আধুনিক সাউন্ড প্রযুক্তি, সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত বিকল্প, কারিগরি সক্ষমতা এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা প্রদান করে।

উপস্থাপনায় ডিজিটাল অডিও প্রযুক্তি, উন্নত মাইক্রোফোন ব্যবস্থা, শব্দ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় অডিও ম্যানেজমেন্ট এবং সংসদীয় কার্যক্রমে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করার বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি জাতীয় সংসদের বর্তমান অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের সম্ভাব্য পরিকল্পনাও আলোচনা করা হয়।

সভায় উপস্থিত অতিথিরা প্রস্তাবিত প্রযুক্তিগুলোর কার্যকারিতা, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারযোগ্যতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং সংসদের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে মতামত দেন। তারা একটি আধুনিক, নির্ভরযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক মানের সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে সংসদের অধিবেশন পরিচালনা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়।

এ সময় জাতীয় সংসদের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আধুনিক অডিও ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য আরও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে এবং সংসদীয় কার্যক্রমের মান উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি মূল্যায়ন, ব্যয় নিরূপণ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জাতীয় সংসদের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।