৩০ জুলাইয়ের ধর্মঘট প্রত্যাহার করল সিএনজি মালিকরা

চলমান গ্যাস সংকট এবং জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী ৩০ জুলাই ঘোষিত এক দিনের প্রতীকী ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। তবে দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর, সাবেক সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে তুলে ধরা হলেও সেগুলোর সুনির্দিষ্ট সমাধানে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ কারণে আগামী ৩০ জুলাই এক দিনের প্রতীকী ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

তবে সম্প্রতি মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার কারণে দেশে গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বিবেচনায় নিয়ে সরকারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে ৩০ জুলাইয়ের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানায় সংগঠনটি।

এর আগে গত ২১ জুলাই রাজধানীর একই স্থানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৩০ জুলাই প্রতীকী ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়। সে সময় নেতারা অভিযোগ করেন, ধারাবাহিকভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং প্রায় এক দশক ধরে সিএনজি বিক্রিতে কমিশন বা মার্জিন বৃদ্ধি না পাওয়ায় সারা দেশের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

তারা বলেন, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ব্যবসা পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে এবং অনেক স্টেশন মালিক লোকসানের মুখে পড়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা আরও জানান, ৩০ জুলাইয়ের প্রতীকী ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলেও এটি দাবি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ করে দিতেই আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।

তারা সতর্ক করে বলেন, দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে যদি সন্তোষজনক অগ্রগতি না হয়, তাহলে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার কর্মসূচি কার্যকর করা হবে।

সংগঠনের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, জনস্বার্থ এবং জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বিবেচনায় সরকার দ্রুত তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। এতে একদিকে যেমন সিএনজি স্টেশন মালিকদের সংকট দূর হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও নির্বিঘ্নে সেবা পাবে।