ব্যাংক শাখা স্থাপনে ভাড়াচুক্তির মেয়াদ হবে ৬

ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও অন্যান্য ব্যবসায়িক কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ ন্যূনতম ছয় বছর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে চুক্তির প্রথম তিন বছরের মধ্যে কোনো ধরনের ভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে না। তিন বছর পর ভাড়া বাড়ানোর প্রয়োজন হলে তা মূল ভাড়ার ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। পাশাপাশি সার্ভিস চার্জ মূল ভাড়ার ১০ শতাংশের বেশি নির্ধারণ করা যাবে না।

ব্যাংকগুলোর শাখা, উপশাখা, বুথসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কেন্দ্র স্থাপন, স্থানান্তর এবং ভবন ভাড়ার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনতে নতুন সমন্বিত নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল রোববার (২৬ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে ‘ব্যাংক ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপন, স্থানান্তর, ভাড়া/ইজারা গ্রহণ ও চুক্তি নবায়ন সংক্রান্ত নীতিমালা’ জারি করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয় কমানো, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং শহর ও পল্লি অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করাই নতুন নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য।

নীতিমালা অনুযায়ী, শহর এলাকায় একটি ব্যাংক শাখার সর্বোচ্চ আয়তন হবে ৬ হাজার বর্গফুট। আর পল্লি এলাকায় শাখার আয়তন সর্বোচ্চ ৩ হাজার বর্গফুট নির্ধারণ করা হয়েছে। উপশাখার জন্য সর্বোচ্চ ১ হাজার বর্গফুট, কালেকশন বুথের জন্য ৩৫০ বর্গফুট এবং এটিএম বুথের জন্য ১০০ বর্গফুট জায়গা রাখা যাবে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো ইচ্ছামতো যেকোনো স্থানে নতুন ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপন করতে পারবে না। নতুন শাখা (শহর ও পল্লি), উপশাখা, কালেকশন বুথ এবং ফরেন কারেন্সি এক্সচেঞ্জ বুথ স্থাপনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হবে।

এ ছাড়া বিদ্যমান ব্যবসা কেন্দ্র একীভূতকরণ, রূপান্তর বা বন্ধ করা এবং কোনো শাখা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হবে।

তবে ইলেকট্রনিক বুথ (এটিএম, সিআরএম, সিডিএম), এক মাসের কম সময়ের অস্থায়ী বুথ এবং বিমানবন্দর লাউঞ্জ স্থাপনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে না। এসব ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদ বা নির্বাহী কমিটির অনুমোদনই যথেষ্ট হবে। তবে স্থাপনের তথ্য এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।

ভাড়া ও অগ্রিম প্রদানের ক্ষেত্রেও নতুন নীতিমালায় কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো এলাকার প্রচলিত ভাড়ার তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি ভাড়ায় জায়গা নেওয়া যাবে না। মাসিক ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয়যোগ্য অগ্রিম অর্থ চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ৩০ মাসের ভাড়ার সমান হতে পারবে। আর ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা জামানতের ক্ষেত্রে তা সর্বোচ্চ ছয় মাসের ভাড়ার সমান নির্ধারণ করা হয়েছে।

কোনো ব্যাংকের পরিচালক বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন ভবন ভাড়া নেওয়া হলে আবেদনের সময় বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। একই এলাকার অন্য ভবনের তুলনায় ওই ভবনের ভাড়া বেশি নির্ধারণ করা যাবে না।

নতুন ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা বা ইন্টেরিয়র কাজে প্রতি বর্গফুটে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ টাকা ব্যয় করা যাবে। তবে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এই ব্যয় সীমিত থাকবে প্রতি বর্গফুটে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে।

এ ছাড়া শহর ও পল্লি অঞ্চলে ব্যাংক শাখা স্থাপনের অনুপাত ৫০:৫০ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ কোনো ব্যাংক এক বছরে যতগুলো শাখা খোলার অনুমতি পাবে, তার অন্তত অর্ধেক পল্লি এলাকায় হতে হবে। একই বছরে একই শহরে একটির বেশি নতুন শাখা খোলা যাবে না।

পল্লি অঞ্চলের কোনো শাখাকে শহর এলাকায় স্থানান্তর করা যাবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সান্ধ্য ব্যাংকিংয়ের সময় স্বাভাবিক ব্যাংকিং সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা বেশি হতে পারবে। এ সময় শুধু নগদ টাকা জমা নেওয়া যাবে, অন্য কোনো লেনদেন করা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন নীতিমালার কোনো শর্ত লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। ভুল তথ্য দিয়ে অনুমোদন নেওয়া বা নিয়মবহির্ভূতভাবে শাখা স্থানান্তর করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা কেন্দ্রের অনুমোদন বাতিলের ক্ষমতা থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, নতুন সমন্বিত নীতিমালা কার্যকর হলে ব্যাংকগুলোর অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আধুনিক ব্যাংকিং সেবা আরও বিস্তৃত হবে।