ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতার আওতায় ১২ হাজারের বেশি, দেশে সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৬ লাখ

দেশে কর্মরত ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮১০ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে এই ভাতার আওতায় আনা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সংসদের বৈঠকে গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রশ্নোত্তর পর্বের লিখিত উত্তর উপস্থাপন করা হয়।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে কতজন ইমাম ও মুয়াজ্জিন কর্মরত আছেন, সে বিষয়ে সরকারের কাছে হালনাগাদ কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে ২০২০ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে মসজিদের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার ১২৫টি। সে হিসাবে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সম্ভাব্য সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার ২৫০ জন।

তবে সম্ভাব্য এই বিপুল সংখ্যক ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সবাইকে কবে নাগাদ ভাতার আওতায় আনা হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা জানাননি ধর্মমন্ত্রী।

৩৪২টি মডেল মসজিদের নির্মাণ শেষ

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পের আওতায় মোট ৫৬৪টি মডেল মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মধ্যে ৩৪২টি মসজিদের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ১৮৬টির কাজ চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট মসজিদগুলোর নির্মাণকাজ ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধারে উদ্যোগ

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, অ-তালিকাভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি তালিকাভুক্তকরণ, আদালতে মামলা দায়ের এবং ওয়াকফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২-এর ৬৪ ধারার আওতায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সম্পত্তি উদ্ধার করা হচ্ছে।

তিনি জানান, গত এক বছরে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে ১৫১ দশমিক ১৭৯৫ একর ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি তালিকাভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবোত্তর সম্পত্তির কতটুকু বাস্তবে উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি দেননি।

মসজিদভিত্তিক শিক্ষকদের সম্মানী বাড়বে

ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের উত্তরে ধর্মমন্ত্রী জানান, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের শিক্ষকদের বর্তমান মাসিক সম্মানী ৬ হাজার টাকা।

প্রকল্পের উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে এ সম্মানী বৃদ্ধি করে ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৭ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত করা হবে বলে জানান তিনি।