দুই হত্যা মামলায় তৌফিক-ই-ইলাহীর জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি হত্যা মামলায় জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে আপাতত তার মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

তৌফিক-ই-ইলাহীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন। তিনি আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, দুটি মামলার একটির এজাহারে তৌফিক-ই-ইলাহীর নাম ছিল না। পরে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলেও তার কাছ থেকে কোনো স্বীকারোক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। একই মামলার এজাহারভুক্ত অনেক আসামি ইতোমধ্যে জামিন পেয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্য মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি ২০২২ সালের হলেও মামলা হয়েছে ২০২৪ সালে। সেখানে তৌফিক-ই-ইলাহীকে চার নম্বর আসামি করা হয়েছে। ওই মামলার ৪২ নম্বর আসামি সাবেক সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীসহ এজাহারভুক্ত অন্তত ৩০ জন ইতোমধ্যে নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

আইনজীবী খোকনের দাবি, তৌফিক-ই-ইলাহী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রবীণ নাগরিক। তার বয়স ৮২ বছর এবং তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় আদালত তাকে জামিন দিতে পারতেন। তবে দীর্ঘ শুনানির পর আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় তারা এখন অন্য বেঞ্চে আবেদন উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর জামিন আবেদন খারিজ করা হয়েছিল। সে সময় ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর তদন্ত চলমান থাকায় জামিন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।

গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর সরকারবিরোধী আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। পরদিন রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় আন্দোলনের সময় একজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত।

সাবেক আমলা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শেখ হাসিনা সরকারের সময় জ্বালানি খাতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আলোচনা ছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশত্যাগ করার পর তৌফিক-ই-ইলাহীও আত্মগোপনে চলে যান।